লীগ অ্যাক্টিভ, সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের
চলমান আন্দোলন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৩ মিনিটে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করে, লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জের সাবেক কমিশনার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া মারা গেছেন
একই সঙ্গে পোস্টে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন ১২ তারিখেই হবে বলে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান।
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: পরপর দুই ভূমিকম্পে আফটারশকের শঙ্কা
শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’,‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’,‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’,‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’,‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’,‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’,‘বাংলাদেশের জনগণ, নেমে আসুন, নেমে পড়ুন’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলসংলগ্ন সড়ক থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ সময় পুলিশ ছররা গুলিও নিক্ষেপ করে।
এই সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তার, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।





